
চ্যানেল বাগেরহাট — অনলাইন নিউজ পোর্টাল
www.channelbagerhat.com
নলধা-মৌভোগে জমি বিরোধের জেরে দুই মামলা, হয়রানির অভিযোগ ভুক্তভোগী পক্ষের
বাগেরহাট বিশেষ প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নলধা-মৌভোগ এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একটিতে ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা এবং অন্যটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে এসব মামলা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মামলাগুলোর অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
প্রথম মামলা: ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে
প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ ও দখলকে কেন্দ্র করে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষের প্রশ্ন, জমির মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেখানে দলিল, সিএস-এসএ-আরএস-বিএস খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের নথি যাচাই করা প্রয়োজন, সেখানে মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় মামলা: নারী নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা
অপর নথিতে দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, বাগেরহাটে তাসলিমা খাতুন (২৭), স্বামী ইয়াসিন রহমান, গ্রাম: নলধা, ফকিরহাট—বাদী হয়ে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ফকিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার সময় চিৎকার করলে তাঁর দুই নাবালিকা সন্তান ঘর থেকে বের হয়ে আসে। পরে অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যোগসূত্র খুঁজছে অনুসন্ধান
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, একই জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রথমে ভূমি মামলা এবং পরে নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে তাঁরা মানসিক ও সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।
তবে অপর পক্ষের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিযোগকেই প্রমাণিত হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।
প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে জমির মূল দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, দখলের প্রমাণ, ভূমি অফিসের প্রতিবেদন এবং উভয় মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি যাচাই করা প্রয়োজন। আমাদের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়; বরং নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা।
নলধা-মৌভোগের এই বিরোধ নিয়ে নথিভিত্তিক অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।



