
চ্যানেল বাগেরহাট — অনলাইন নিউজ পোর্টাল
www.channelbagerhat.com
নেপালের হড়পা বান: বাংলাদেশের জন্যও জলবায়ু ঝুঁকির সতর্কবার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক:

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হড়পা বান ও পাহাড়ধস নতুন করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সামনে এনেছে। নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ হিমবাহ ও পাহাড়ধস হলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
হিমালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি ভৌগোলিক সম্পর্ক না থাকলেও নদী ও জলবায়ু ব্যবস্থার কারণে এ অঞ্চলের পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। বিশেষ করে বন্যা, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। একই সময়ে মানুষের অনুভূত তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালে অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশে বিপুল কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে এবং অর্থনীতিতে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারেন। একই সময়ে কৃষি খাতও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনাকে সরাসরি ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে সৃষ্ট বন্যা’ বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। তবে ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
হিমালয়ের বরফ থেকে বঙ্গোপসাগরের উপকূল—জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি জোরদার না করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও বড় ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হতে পারে।



