
চ্যানেল বাগেরহাট — অনলাইন নিউজ পোর্টাল
www.channelbagerhat.com
ফকিরহাটে ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও জামায়াতের আমিরের ভাতিজা শহীদ হাসান ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক।
বিশেষ প্রতিনিধি,,,

মাদক ও সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাইকপাড়া গ্রাম থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী শহীদ হাসানকে হাতেনাতে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিচালিত দীর্ঘ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে এবং ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ফকিরহাট উপজেলা জামায়াতের আমিরের ভাতিজা বলে জানা গেছে।
অপরাধ সাম্রাজ্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
স্থানীয় সূত্রে ও প্রশাসনের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শহীদ হাসান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য অপকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে:
মাদক ব্যবসা ও ক্ষমতার অপব্যবহার: নিজেকে আড়াল করতে ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তিনি কৌশলে রাজনৈতিক পদ ও আত্মীয়তার পরিচয় ব্যবহার করতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে “মাদকের সাজা মৃত্যুদণ্ড” বলে স্ট্যাটাস দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেন এবং আড়ালে নিজের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতেন।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড: এলাকায় চাঁদাবাজি, রাষ্ট্রীয় গাছ কাটা, শালিসের নামে অর্থ বাণিজ্য, জমি দখল, ক্লাব দখল এবং সরকারি অনুদানের কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে পুরো গ্রামবাসীকে তিনি জিম্মি করে রেখেছিলেন।
বিলাসবহুল জীবন: এসব অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়েই তিনি দামি গাড়ি ও লাখ লাখ টাকার জমির মালিক হয়েছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন।
গুরুতর অপরাধ ও সহিংসতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনদুপুরে ফকিরহাটে মানুষ হত্যায় অংশগ্রহণের ভিডিও রয়েছে তার। এছাড়া বাগেরহাটের আলোচিত বারুইপাড়া বিএনপি নেতা বাদল হত্যা মামলার সাথেও তার জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে।
ভীতি প্রদর্শন: বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে নিজের অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতেন।
আইনগত ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা
গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটকের পর শহীদ হাসানের বিরুদ্ধে ফকিরহাট মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফকিরহাট মডেল থানার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে:
আসামির বিরুদ্ধে আনীত প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
সুষ্ঠু ও কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে রিমান্ডের জোর দাবি জানানো হবে।



