
চ্যানেল বাগেরহাট — অনলাইন নিউজ পোর্টাল
www.channelbagerhat.com
ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড়ে ধীরগতিতে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ, চরম ভোগান্তিতে পথচারী
নিজস্ব প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড়ে লেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুটি আরসিসি স্ল্যাব ব্রিজ প্রশস্তকরণের কাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রতিটি ব্রিজের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৫০ মিটার। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য প্রায় ৮ কোটি ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, যেখানে মূল সড়ক সম্প্রসারণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থের এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কাজ শুরুর পর দীর্ঘ সময় পার হলেও মূল সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখির পর প্রায় এক সপ্তাহ আগে ব্রিজ প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, সাইনবোর্ডে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য পর্যাপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ব্রিজের মাস্টার প্ল্যান, কতটি পাইল স্থাপন করা হবে, পাইল কত ফুট গভীরে যাবে—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি তথ্যও সাইনবোর্ডে নেই বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে ব্রিজ ও সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের কারণে ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড় ও আশপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহনের যাত্রী, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশেষ করে স্কুল, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চললেও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে সামান্য বাতাস বা যানবাহন চলাচল করলেই পুরো এলাকা ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ তদারকিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। এতে নির্মাণকাজের মান, অগ্রগতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যথাযথ মান বজায় রাখা, নিয়মিত তদারকি এবং জনদুর্ভোগ কমানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।



