
চ্যানেল বাগেরহাট — অনলাইন নিউজ পোর্টাল
www.channelbagerhat.com
ফকিরহাট হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, কমিশনের প্রলোভনে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী পাঠানোর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নিয়োগকৃত কর্মীদের আনাগোনা ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় রোগীদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা প্রতারণা ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর বিনিময়ে কেউ কেউ কমিশন পেয়ে থাকেন। এমনকি হাসপাতালের অভ্যন্তরে থাকা কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে রোগীদের অনেক সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো অসাধু চক্র রোগীদের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
একটি ক্লিনিকের কর্মীর ১৫ দিনের সাজা, উঠেছে প্রশ্ন
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের এক কর্মীকে ঘিরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৫ দিনের সাজা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মীকে রাস্তা থেকে ধরে এনে হাসপাতালের অভ্যন্তরে বসানো হয় এবং আদেশ অমান্যের অভিযোগে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়।
এদিকে, ওই কর্মীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং দোষ স্বীকার করানো হয়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং মোবাইল কোর্টের নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন।
শুধু একটি প্রতিষ্ঠান কেন, প্রশ্ন সচেতন মহলের
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, হাসপাতালের ভেতরে যদি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কর্মীদের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে শুধু একটি ক্লিনিকের কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো কেন? এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা জনমনে পক্ষপাতিত্বের ধারণা তৈরি করতে পারে। তাই অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
দরিদ্র রোগীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত
সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা যেন কমিশনভিত্তিক রোগী স্থানান্তর, প্রতারণা কিংবা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অননুমোদিত তৎপরতা বন্ধ, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা সচল করা এবং রোগী স্থানান্তরের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে দাবি, ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, কমিশন লেনদেনের অভিযোগ এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের সাজা দেওয়ার ঘটনার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সরকারি হাসপাতাল হবে সেবার নিরাপদ আশ্রয়স্থল, কোনো দালালচক্র বা কমিশনভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্র নয়।



