
চ্যানেল বাগেরহাট — অনলাইন নিউজ পোর্টাল
www.channelbagerhat.com
বাগেরহাটের ফকিরহাটে চাঞ্চল্যকর মামলা: ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বাগেরহাট বিশেষ প্রতিনিধি : মুন্সি আলী আকবর

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এক আসামিকে ধরে নিয়ে গেলেও অপর আসামিকে রহস্যজনক কারণে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দিয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও মামলার বিবরণ
মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, উন্নতি রানী সাহার ছেলে শৈশব সাহা ধর্মান্তরিত হয়ে এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে তাকে গর্ভবতী করে গর্ভপাত করান। কিন্তু তরুণীর দায়িত্ব নিতে শৈশব অস্বীকার করায় এবং প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী তরুণী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তরুণীর জবানবন্দী, অভিযোগের প্রকৃতি এবং মেডিকেল রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। পরবর্তীতে আদালত বটিয়াঘাটা থানাকে জিআর মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং প্রধান অভিযুক্ত শৈশব সাহা ও তার মা উন্নতি রানী সাহার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ইস্যু করেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি উন্নতি রানী সাহা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার প্রভাবে ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকাশ্যেই বাড়িতে অবস্থান করছেন। গত বৃহস্পতিবার বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ, ফকিরহাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় নিজ বাড়ি থেকে প্রধান অভিযুক্ত শৈশব সাহাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, গ্রেপ্তারের সময় বাড়িতে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্ররোচনায় ওয়ারেন্টভুক্ত অপর আসামি উন্নতি রানী সাহাকে গ্রেপ্তার না করেই চলে আসে। আদালতের পরোয়ানা থাকার পরও একজন আসামিকে পুলিশি সুরক্ষায় রেখে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি উন্নতি রানী সাহাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।



