
চ্যানেল বাগেরহাট — অনলাইন নিউজ পোর্টাল
www.channelbagerhat.com
সংবাদ প্রকাশের পর অসুস্থ লেখক জুড়ান মণ্ডলের বাড়িতে ইউএনও
পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস, চিকিৎসার জন্য নগদ ৫ হাজার টাকা সহায়তা
চিতলমারী প্রতিনিধি (প্রিন্স হালদার):

‘চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন লেখক জুড়ান মণ্ডল’—এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর অসুস্থ ও অসহায় লেখক জুড়ান চন্দ্র মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তার।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ইউএনও খাদিজা আক্তার উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ লেখক জুড়ান মণ্ডলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি তার চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান এবং সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসার প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে জুড়ান মণ্ডলের হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি।
ইউএনওর এমন মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অসুস্থ জুড়ান মণ্ডল ও তার পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকা একজন অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এভাবে এগিয়ে আসাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. একরামুল হক মুন্সীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, লেখক জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল গত প্রায় ছয় মাস ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরের এক পাশ অচল হয়ে গেছে। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই তার। অভাব-অনটনের সংসারে নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই এখন তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
অথচ একসময় এই মানুষটিই ছিলেন অন্যের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পেশায় দর্জির কাজ করে যে সামান্য আয় করতেন, তা দিয়ে নিজের সংসার চালানোর পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই-খাতা এবং বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস।
শুধু তাই নয়, সমকালীন নানা বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেছেন। লিখেছেন একাধিক নাটকও। নিজের অর্থ ব্যয় করে সেসব নাটক মঞ্চায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আলোর পথ দেখানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
আজ সেই লেখক, নাট্যকার ও সমাজহিতৈষী মানুষটিই অসুস্থ শরীর নিয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। একসময় যিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করেছেন, অর্থের অভাবে আজ তাকেই নিজের চিকিৎসার জন্য মানুষের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে—বিষয়টি স্থানীয়দের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ইউএনও খাদিজা আক্তার বলেন, “জুড়ান মণ্ডলের অসুস্থতার বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরই তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। জুড়ান মণ্ডলের মতো একজন মহৎ ও সমাজসচেতন মানুষের পাশে সবাইকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, সমাজের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা এমন একজন অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশার আলো দেখিয়েছে। তবে শুধু এককালীন সহায়তা নয়, জুড়ান মণ্ডলের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
মানুষের জন্য যার কলম ও কর্ম ছিল নিবেদিত, আজ সেই মানুষটির জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা।



